সুপাঠ্য উপন্যাস আনন্দমঠ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ পড়ে ভারতবর্ষের বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্রতী হয়েছেন। দেশমাতৃকার প্রেমে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ব্রিটিশ বেনিয়াদের থেকে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে, ব্রিটিশদের অধীনতা থেকে স্বজাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ভারতীয় বিপ্লবীরা বিভিন্ন সময় যে আন্দোলন গড়ে তোলেন তার রসদ আনন্দমঠ উপন্যাস থেকেই পাওয়া। এই উপন্যাসেই আছে ভারতের রাষ্ট্রগীত বন্দে মা তরম। এই গান গেয়েই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন বিনয়-বাদল-দীনেশ, এই গানের বলেই চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেছেন মাস্টারদা সূর্যসেন, ব্রিটিশদের প্রতিরোধের মুখে জীবন দিয়েছেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। এই গানের শক্তিতে মহীয়ান হয়ে শ্রী অরবিন্দ ঘোষ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্তরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পেয়েছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম উপন্যাস আনন্দমঠ ও বন্দে মা তরম গানের শক্তিতে আজও ভারতের যেকোনো দেশাত্ববোধক প্রতিবাদ-সংগ্রামে আমাদের বলীয়ান করে তোলে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে ও মৃত্যু ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে। আনন্দমঠ ছাড়া তাঁর আরও উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, রাজসিংহ, কপালকুণ্ডলা, দেবী চৌধুরাণী প্রভৃতি। বঙ্কিমচন্দ্রের সব উপন্যাসই পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও আলোড়ন ফেলেছে। আনন্দমঠ উপন্যাস পড়ে আমার একটাই জিনিস মনে হয়েছে এটা দেশাত্মবোধক উপন্যাস। উপন্যাসটির প্লট ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ। এই দুটি প্রেক্ষাপটই আনন্দমঠ উপন্যাসের উপজীব্য।