বুড়ো সাধু-
আজ এক অন্য স্বাদের সিনেমা দেখলাম অনেক দিন পর। এক অপূর্ব অনুভূতি নিয়ে ফিরলাম। মনের গভীরে কোথায় যেন নাড়া দিয়ে গেল। "মাথার ভিতরে এক বোধ কাজ করে'- জীবনানন্দের সেই লাইনটা যেন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার ভিতর। আবিরের হতাশা, ব্যর্থতা বা অন্য কিছু একটা করার যে অদম্য ইচ্ছা তা যেন ভীষণ চেনা। এর মধ্যে আবার এই বার্তাটাও পরিচালক দেন - মনরোগ বিশেষজ্ঞ তো অচেনা এক ব্যক্তি সে কি করে পারবে এই অস্থিরতা সারাতে? নিজেকেই এই অন্ধকার থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। আবার নিজের সাথে নিজের লড়াইয়ে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় পাশে থাকে এক বন্ধু যে পথ দেখায়, সাহস দেয়। ঈর্ষা নয় বন্ধুর সাফল্যে গর্বিত হয়। মনে হয় আজও বন্ধুত্বের সংজ্ঞা বদলায়নি। পরিশেষে এই যে সহজে সব পাওয়ার প্রবণতা যার জন্য নিজের সত্ত্বা বিসর্জন দিতে পিছুপা নয় আজকের প্রজন্ম একথা ও স্পষ্ট ভাবে বলার সাহস দেখিয়েছেন পরিচালক। মুহূর্তের মধ্যেই আজ আমরা বেঁচে আছি, স্থায়ীত্ব কোথায়? আদৌ কি স্থায়ী বলে কিছু আছে? শেষ টা সবাইকে ভাবায়- সত্যি কি এই মুহূর্ত টাই সব ভেবে আবির থেমে যাবে? নাকি পাড়ি দেবে আরও আরও অনেক পথ। আমাদের সকলের আশা আরও খানিকটা উসকে দিলেন পরিচালক। অনেক প্রত্যাশা রইল তার কাছে। অসামান্য সংলাপ, গান মন ছুঁয়ে গেল। কিছু নতুন সংগীত শিল্পী র সাথে পরিচয় ঘটল। বাউল গান টা বড্ড মনকেমন করা। অভিনয় উনিশ বিশ হলেও আবিরকে ভোলা যাবে না। পরিচালকের এ যেন এক আত্মকথন, এক স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। শেষে অনুপমের গান আর কবিতার যে মেলবন্ধন সেটা শেষে না হয়ে অন্য কোথাও হলে ভালো লাগত। অনেক শুভেচ্ছা রইল পরিচালক ও বুড়ো সাধু টিমের জন্য।